মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১st জানুয়ারি ২০২০

সুবিধাভোগী সফলতার কাহিনী

১. খুকি বেগমের স্বনির্ভর হওয়ার কাহিনী

 

 খুকি বেগম ঝিনাইগাতী উপজেলার দক্ষিণ ঝিনাইগাতী গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে একই গ্রামের নুরুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। স্বামীর জমি-জমা নেই বললেই চলে। নূরুল ইসলাম দর্জি কাজের পাশাপাশি দিন মজুর হিসেবেও কাজ করেন। তার স্বল্প আয়ে দু’বেলা দুমুঠো পেটের ভাত জুটানো দুরুহ ছিল। দিন যেতে থাকে। সংসারে আসে ৩টি সন্তান। বাড়তে থাকে অভাব-অনটন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে তিনি যখন জর্জরিত, ঠিক তখনই ২০১২ সনে একদিন পল্লী প্রগতি প্রকল্পের মাঠ সংগঠক চিনু রানী রায় এর সাথে তার পরিচয় হয়। তার দুঃখের কাহিনী শুনে চিনু রানী তাকে প্রকল্পের সদস্য হতে পরামর্শ দেন। পরামর্শ মতে ২০১২ সনে ঝিনাইগাতী দক্ষিণ মহিলা দলের সদস্য হন এবং ঐ বৎসরেই ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে ৭০০০/- টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এ টাকার কিছু অংশ দিয়ে তিনি ছিট কাপড় কিনে তার দোকানে বিনিয়োগ করেন এবং বাকী টাকা দিয়ে হাঁস মুরগী কিনে তা পালন করতে থাকেন। হাঁস মুরগীর ও ডিমের বিক্রিত টাকা দিয়ে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ ও সঞ্চয় করেন। ব্যবসার আয় দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসার চালান। তিনি সম্পুর্ণ ঋণ পরিশোধ করে ৩য় দফায় ২০১৫ সালে আবার ১১,০০০/- টাকা ঋণ গ্রহণ করেন যা দিয়ে তিনি একটি বকনা গাভী ক্রয় করেছেন। বর্তমানে তার ২টি গরু ও ১টি ছাগল আছে যা দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে খামার করার স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁর সন্তানেরা সবাই বিভিন্ন লেখাপড়া করছে। বর্তমানে তার সংসারে অনেকটাই স্বচ্ছলতা এসেছে। তিনি উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখছেন।

 


কথাগুলি বলতে বলতেই তার চোখে অশ্রু নেমে এলো। আর এ অশ্রুই ভবিষ্যতে বিত্তহীন থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্নে বিভোর করেছে তাকে। ইতোমধ্যে তিনি বাড়ীতে উন্নত স্যানিটেশনের ব্যবস্থাসহ বাড়ীর অবকাঠামো অনেক সুন্দর করেছেন। তাঁর এ সাফল্যের জন্য তিনি বিআরডিবি’র নিকট কৃতজ্ঞ। বিআরডিবি’র মাধ্যমে তার মত অসহায় পরিবারের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটুক তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


২. বিআরডিবি’র ক্ষুদ্র ঋণ বদলে দিয়েছে আজিজুলের জীবন

 

মোঃ আজিজুল মোড়ল খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার বাসিন্দা। বাবার আর্থিক সমস্যার কারনে তিনি ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পিতা-মাতা,স্ত্রী, ছোট ভাইবোন ও দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে তার পরিবার। দৈনিক প্রচুর পরিশ্রম করা সত্বেও তার আয় দ্বারা পরিবারের সদস্যদের ভরনপোষণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। ঋণ করে ছোট বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর তার সমস্যা আরও বাড়ল এবং তিনি হতাশ হয়ে পড়লেন।